Deutsch | English | Español | Français | Português | 中文 | বাংলা | 日本語
অনেক ধন্যবাদ মুক্তাদির হসেইন আল্ভি ও শামস জাবের কে গশ্ ঘোষণাপত্র অনুবাদ করার জন্য।
জ্ঞানের অন্বেষণ ও প্রসারের সহযোগিতার জন্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির নানামুখী উদ্ভাবক ও ব্যাবহাকারীদের মধ্যে যে একটা ফারাক রয়েছে তা কমিয়ে আনার জন্যই গ্লোবাল ওপেন সায়েন্স হার্ডওয়্যার (GOSH)-এর যাত্রা। আমাদের মূলনীতিগুলোঃ
গশ্ সহজলভ্য
যে কেউ বৈজ্ঞানিক হার্ডওয়্যার ও প্রজেক্টগুলো পেতে পারে এবং এর গবেষনা, পরিবর্তন, বণ্টন ও ব্যাবহার করতে পারে।
এজন্য যন্ত্রপাতিগুলো উন্মুক্ত, বৈধ ও কোন প্রকারের মূল্য ছাড়া।
আমাদের লেখা সহজেই পাঠযোগ্য ও যোগাযোগ স্থাপনকারী।
আমরা আমাদের কাজকে ভৌগলিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সবার জন্য উন্মুক্ত করি।
আর্থসামাজিক সহজলভ্যতার কথা মাথায় রেখে উপকরণগুলোর মূল্য সর্বনিম্ন ও সহজেই তা পাওয়া যায় যখন প্রয়োজন।
ওপেন সায়েন্স হার্ডওয়্যারগুলো রক্ষণীয় ও মেরামতযোগ্য।
আমরা অনুসরণ করি এমন সব নীতিমালা যেগুলো ওপেন সোর্স সফটওয়্যার, ফ্রী সফটওয়্যার ,উন্মুক্ত বিজ্ঞান ও হার্ডওয়্যার এর অগ্রযাত্রা দ্বারা ইতিমধ্যেই সুপ্রতিষ্ঠিত।
গশ্ বিজ্ঞানকে করে তুলে আরও সমৃদ্ধ
ওপেন হার্ডওয়্যার এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো পুনরায় ঘটানো যায়, তা আরও তুলনীয় এবং এর অনুকরণের সম্ভাবনা বেড়ে যায় আরও বেশী।
এই ওপেন হার্ডওয়্যার ব্যাবহার করে বিভিন্ন খাত, মাধ্যম ও দেশের মধ্যে তথ্য উপাত্তগুলো যাচাই করা যায় আরও বেশি।
সঠিক বিজ্ঞান যাত্রার অন্যতম নির্দেশক হল পুনরোৎপাদন ক্ষমতা এবং ওপেন সায়েন্স হার্ডওয়্যার এই ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।
বিজ্ঞানের প্রসার ঘটায় এই ওপেন সায়েন্স হার্ডওয়্যার।
১ টি মস্তিষ্ক থেকে ১০০০ মস্তিষ্ক অবশ্যই শ্রেয়।
গশ্ নৈতিক
প্রতিটি মানুষেরই রয়েছে জ্ঞান লাভ করার অধিকার। সেইসাথে এই জ্ঞান লাভ করতে তার অধিকার রয়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ওপর।
একজন ব্যাবহারকারী একজন উদ্ভাবক হওয়ার মধ্য দিয়ে তার নিজস্ব চিন্তা চেতনার সাথে প্রযুক্তির সংমিশ্রণ ঘটায়।
বিজ্ঞানের সুফল ছড়িয়ে দিতে হবে সবার মাঝে এবং তা যেন অবশ্যই ক্ষতিকারক না হয়।
জ্ঞানের পাণ্ডিত্য, দেশ, বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে ওপেন সায়েন্স হার্ডওয়্যার সবার জন্য উন্মুক্ত এবং তাতে কোন প্রকার বৈষম্যের স্থান নেই।
শান্তিপ্রিয় কাজেই গশ্-এর ব্যবহার।
গশ্ বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনে
আমরা সমর্থন করি উন্মুক্ত বিজ্ঞান। যার জন্য প্রয়োজন ওপেন সায়েন্স হার্ডওয়্যার।
রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক, ব্যক্তিগত মালিকানা ও ক্ষেত্রবিশেষ ভিত্তিক কার্যকলাপ থেকে দূরে সরে গিয়ে আমরা বিজ্ঞানকে করে তুলি সাম্প্রদায়িক, সহজলভ্য ও সহযোগী।
গবেষণা অন্বেষণে বিদ্যমান ভেতরকার (শিক্ষা, এনজিও, সরকারী, নন প্রফিট, স্টার্ট-আপ, ব্যবসায়িক) এবং বাহিরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমরা সম্মিলিতভাবে সবার সুযোগ করে দেই।
প্রতিষ্ঠিত স্থাপনা (যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এনজিও)-র বাহিরে আমরা নতুন বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র সৃষ্টি করি যাতে করে আরো গবেষণার পথ উন্মুক্ত হয়।
আমরা প্রসার ঘটাই বিজ্ঞানের অন্বেষণে আমাদের অনুসরণ করা পথগুলোর। যাতে করে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী হতে প্রাপ্ত জ্ঞানের মাধ্যমগুলো জ্ঞান সৃষ্টির অংশ হয়ে উঠে বর্তমানে ও ভবিষ্যতে।
গশ্ বিজ্ঞানকে গণতান্ত্রিক করে তোলে
আরো বেশি ও বিভিন্ন প্রকারের মানুষ বিজ্ঞান যাত্রায় অংশগ্রহন করতে পারে ও বিজ্ঞান থেকে লাভবান হতে পারে।
আমরা শাসনতন্ত্র ও বিভিন্ন প্রকার প্রতিষ্ঠান-এর মধ্যকার সীমাবদ্ধতা ভঙ্গ করি, স্থাপন করি জ্ঞান লাভের উন্মুক্ত দুয়ার-জীববিদ্যা শিখতে হলে আপনাকে জীববিজ্ঞানী হতে হবে কিংবা গবেষণা করার জন্য ডিগ্রিধারী হতে হবে এমন কোন শর্ত নেই।
পৃথিবীর দুই মেরু, পেশাদার ও অপেশাদার-এর মাঝে যে পার্থক্য বিশেষ করে স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে, তা কমিয়ে আনে এই ওপেন সায়েন্স হার্ডওয়্যার।
ওপেন সায়েন্স হার্ডওয়্যার অঞ্চল ভেদে জ্ঞানকে চালিত করে এবং প্রত্যক্ষ-জ্ঞানসম্বন্ধনীয় ন্যায় বিচার সাধনে সহায়তা করে।
ওপেন সায়েন্স হার্ডওয়্যার একগুচ্ছ বিচিত্রময় চিন্তা চেতনার অনুমোদন দেয়, সাথে প্রযুক্তি বানাতে ও গবেষণায় প্রযোজনীয় কৌতূহল সৃষ্টি করে।
গশ্ এ কোন প্রধান ধর্মযাজক নেই
আমদের কোন কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই, তবে আছে কমিউনিটি চ্যাম্পিয়নস।
আমরা একদল সক্রিয় গোষ্ঠী, সম্মিলিত সাফল্যের জন্যই আমরা নিয়োজিত।
একলা কাজ করে নয় বরং আমরা গড়ে উঠি একে অপরের সহযোগীতায়।
যত বেশী, তত ভালো।
গশ্ মানুষকে ক্ষমতাবান করে তুলে
যাতে তারা তাদের কৌতূহল অনুযায়ী গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে।
যাতে করে তারা তাদের সমাজের চাহিদা অনুযায়ী গবেষণা অন্বেষণ করতে পারে।
নানা ধরনের সাহায্য (আর্থিক, মানবিক, সাময়িক, যান্ত্রিক সাহায্য সহ)-এর মাধ্যমে যাতে গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে।
যাতে স্বল্প খরচে তারা তাদের কল্পনায় বিচরণ করতে পারে।
যাতে প্রযুক্তি ধার নেয়া, বানানো ও ভাগ করার মাধ্যমে তাদের যন্ত্রপাতিগুলোর ক্রিয়াকৌশল রপ্ত করতে পারে।
যাতে প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা ও জনগনের সচেতনতা তৈরি হয়।
যাতে একটা অগ্রযাত্রার সূচনা হয় ।
গশ্ এর কোন ব্ল্যাক বক্স নেই
(ব্ল্যাক বক্স বলতে বিভিন্ন বিষয়াবলী সমৃদ্ধ অপেক্ষাকৃত জটিল এমন এক যন্ত্রাংশকে বোঝায় যা ব্যবহারকারীর কাছে অজানা থাকে। কিন্তু প্রযুক্তি হল ওপেন সোর্স।)
প্রযুক্তি ধার নিয়ে, বানিয়ে এবং ভাগ করে আমরা আমাদের যন্ত্রপাতির ক্রিয়াকৌশল বুঝতে পারি।
কাজের মধ্য দিয়ে শেখার একটা উপায় হচ্ছে গশ্কে গড়ে তোলা।
ওপেন সায়েন্স প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা ও জনগনের সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
গশ্ একটি প্রভাবশালী হাতিয়ার
প্রযুক্তি পরিবর্তনশীল। ফলে ইহা স্থানীয়, সামাজিক ও যান্ত্রিক চাহিদাগুলো সরাসরি তুলে ধরতে পারে।
একটা সম্প্রদায়ের ব্যাবহারকারীদের চাহিদা ও সায়েন্স হার্ডওয়্যার এর মধ্যকার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কেননা ঐ সম্প্রদায়ের ব্যাবহারকারীদের যন্ত্রপাতিগুলো ব্যাবহার করার, পরিবর্তন করার, যন্ত্রপাতিগুলোর সাথে খাপ খাওয়ানোর ও ঐ গুলোর ওপর তাদের প্রবেশাধিকার রয়েছে।
ওপেন সায়েন্স হার্ডওয়্যার যন্ত্রপাতিগুলোকে কার্যদক্ষ ও প্রতিক্রিয়াশীল করে এর ব্যাবহারকারীদের জ্ঞান বিতরণ এবং এর নিয়মিত ও দ্রুত ফলাফল নিশ্চিত করে।
গুনগত মান পরিমাপের জন্যই ওপেন সায়েন্স হার্ডওয়্যার এর নকশা।
গশ্ বিজ্ঞানের জন্য উম্মুক্ত করে একাধিক ভবিষ্যৎ
গবেষণা হতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে কিংবা ভেতরে, পরীক্ষাগারের ভেতরে বা বাইরে, এমনকি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের ভেতরে বা বাইরেও।
গশ্ প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞানের রীতি-নীতিতে পরিবর্তন আনে।
যেখানে গবেষকরা জ্ঞান ও প্রযুক্তির উম্মুক্ত বিচরণ ঘটায়।
গশ্-কে সাথে নিয়ে বিজ্ঞানী নয় এমন/নিজ নিজ দেশের মানুষগুলো তাদের নিজস্ব ভাষায় গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে ও তাদের নিজস্ব পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
গশ্ এমন সব স্থানে বিজ্ঞানকে সম্ভব করে তোলে যেখানে সাধারণত তা হবার কথা নয়।
বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনাই গশ্ এর লক্ষ্য। আর তাই এর সুযোগ ছড়িয়ে থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

